আমার মেঝো কাকা ছোটবেলা থেকেই
ভীষণ জেদি আর একরোখা ছিলেন।
দাদুর নির্দেশ অমান্য করে রাত
বিরাতে গ্রামের বন্ধুবান্ধবের
সাথে চলে যেতেন
দূরে যাত্রা দেখতে অথবা মাছ শিকারে।
প্রথমেই বলে নেই,
গ্রামে গঞ্জে রাতে মাছ ধরার অন্যতম
কারন হল, তখন মাছ ধরা পড়ে বেশি।
তাই মানুষ বেশিরভাগ সময়ই রাত
হলে মাছ ধরতে যায়।
এমনি ভাবে একদিন আমার কাকা তার
কয়েক বন্ধুর সাথে গিয়েছিলেন
বাড়ি থেকে প্রায় ২ মাইল দূরের
একটা ঝিলে। ঐ ঝিলে প্রচুর
শাপলা ফুটতো। আর
ঝিলটি নাকি গভিরতায় অনেক
বেশি ছিল। তাই সাধারণত মানুষ খুব
একটা যেত না সেখানে মাছ মারার
জন্য। ঐ ঝিল নিয়ে অনেক খারাপ
কথা ছড়িয়ে আছে গ্রাম জুড়ে।
প্রায়প্রতি বছরই ৩-৪ জন মানুষ ঐ
ঝিলে ডুবে মারা যায়।
তাদের মাঝে অনেকেই ভালো সাঁতারু
ছিলেন। তো, এসব কথা জানত
বলে দাদা দাদু মানা করলো যাওয়ার
জন্য। কিন্তু কাকা জেদ ধরলেন
যে তার যেতেই হবে। ভয়ে সরে গেছেন
ভেবে পড়ে তার বন্ধুরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য
করবে এটা কাকা মেনে নিতে পারছিলেন
না।যাই হোক, উনারা খুব আয়োজন
করে৪ বন্ধু মিলে গেলেন মাছ ধরতে।
কাকা এবং উনার বন্ধু কাশেম
লুঙ্গী কাছা দিয়ে প্রায় কোমর
পানিতে নেমে গেছেন। উদ্দেশ্য ছিল
একটু গভীরে গিয়ে জাল মারা।
একটু বলে নেই, সেদিন আমাবস্যা ছিল।
তেমন আলো ছিল না চারপাশে। তাই
উনারা একটা হ্যাজাক
বাতি নিয়ে গিয়েছিলেন। যাই হোক,
উনারা জাল মেরে ঠিকঠাক ভাবেই
উঠে এলেন। উপরে যেই দুজন ছিলেন
তারা অপেক্ষায় ছিলেন।
আস্তে আস্তে জাল গুটাতে লাগলেন।
কাকারাও এর মাঝে ঝিল
থেকে উঠে পড়েছেন। ৪জন মিলেই
ঝিলেরপারে দাঁড়িয়ে জাল গুটাচ্ছিলেন।
হঠাৎ কিসের জেনো আওয়াজ হল পেছন
থেকে। কে যেন ধমক দিল মনে হয়।
হ্যাজাকের আলো ছিল, সেই
আলোতে পেছনে ঘুরে দেখলেন উনারা।
কাউকে দেখলেন না। ভাবলেন
হয়তো মনে ভুল। আবারো জাল
টানতে লাগলেন।
হঠাৎ কি যেন হল, উনাদের হাত
থেকে জালের দড়ি খুব দ্রুত
সরে যেতে লাগলো।
মনে হতে লাগলো কে যেনও খুব
শক্তি দিয়ে উনাদের হাত থেকে সেই
জালটা ছিনিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।
চারজন শক্ত সামর্থ্য জওয়ান, এদের
হাত থেকে জাল টেনে নিয়ে যাওয়ার মত
কোনও মাছ সেই ঝিলে ছিল না।
কাকারা প্রান প্রন
চেষ্টা করতে লাগলেন জালটা থামানোর
জন্য।
তাল সামলাতে না পেরে কাকার এক
বন্ধু পা পিছলে পড়ে গেলেন।
পড়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে হরহর
করে গভীর পানির
দিকে তলিয়ে যেতে লাগলেন।
মনেহতে লাগলো, কেউ যেনও তার
পা ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
কাকারা বিস্ফোরিত
চোখে তা দেখতে লাগলেন। ঘটনার
আকস্মিকতায় তারা স্তব্ধ
হয়ে গিয়েছিলেন। কাকার সেই বন্ধু বার
বার পানির নিচে ডুবে যান আর যখনই
মাথা উপরে উঠে তখনই চিৎকার
করে সাহায্য করতে বলেন। কাকার
বন্ধুরা হই হই করে পিছনের
দিকে চলে যেতে লাগলেন।
তারা ঝিল থেকে উপরে উঠে মাটির
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। কিন্তু
কাকার মনে হয় বুদ্ধি জ্ঞান লোপ
পেয়েছিল। উনি বিমুরের মত সামনে,
আর গভীর পানির দিকে যেতে লাগলেন।
পেছন থেকে কাকার বন্ধুরা চিৎকার
করছিলো, যাসনে, যাসনে করে। কিন্তু
কাকা উনাদের
কথা না শুনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ
কাকা আবিষ্কার করলেন উনার পায়ের
নিচ থেকে মাটিগুলো যেনও ধপ
করে সরে গেলো। দাঁড়ানো অবস্থায়
ছিলেন, কিন্তু ক্ষণিকের
মধ্যে পানিতে ডুবে গেলেন কাকা। হঠাৎ
অনুভব করলেন কে যেন পানির
নিচে টানছে তাকে। খুব শক্তি তার
প্রতিপক্ষের।
একে তো পানির নিচে, তার উপর টান
সামলাতে পারলেন না কাকা।
ডুবতে লাগলেন। নাক
দিয়ে পানি ঢুকতে লাগলো। ফুসফুসের
জমা করা বাতাস গুলো বুদ বুদের মত
করে বেরিয়ে গেলো চিৎকারের সাথে।
যেহেতু পানির নিচে তাই কোনও
আওয়াজ হল না।
আস্তে আস্তে দমে যেতে লাগলেন
কাকা। শেষবারের চেষ্টার মত সরব
শক্তি দিয়ে লাথি মারলেন নিচের দিকে।
অনুভব করলেন কিছু একটার
গায়ে ঠেকল পা টা। অনেকটা মানুষের
শরীরের মত লাগলো। কাকার মনে হল
হয়তো পানির নিচে কেউ
আছে যে তাকে নিচ থেকে টানছে।
নিজেকে বাঁচানোর একটা তাগিদ
ফিরে এলো। যদি পানির নিচের মানুষটার
হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়
তাহলে হয়তো বেচে যাবেন। নিজের সব
শক্তি এক করে একটু ঝুঁকলেন কাকা।
নিজের পায়ের কাছে হাত
দিয়ে জোড়ে জোড়ে আঘাত
করতে লাগলেন।
এলো পাথাড়ি কয়েকটা আঘাতের পর
একটা গিয়ে লাগলো কারো মাংশ
পেশিতে। কাকার এক পা থেকে বাঁধন
ছুটে গেলো। এবার কাকা দিগুন
উদ্যমে আবারো হাত চালালেন,
কয়েকটা মারার
পো মনে হতে লাগলো হয়তো এ
যাত্রা বাঁচবেন না, ঠিক তখনই আর
একটাঘুষি গিয়ে লাগলো সেই মাংশ
পিণ্ডে। দ্বিতীয় পাটাও মুক্ত
হলে এবার। টর্নেডোর
গতিতে উপরে উঠতে লাগলেন কাকা।
উনার হাতটা শরীরের পাশে ছিল।
হঠাৎ হাতে তীব্র ব্যাথা অনুভব
করলেন কাকা। মনে হল কে যেন
ধারালো কিছু বসিয়ে দিলো উনার হাতে।
কোন মতে উপরে উঠলেন কাকা।
উপরে উনার বুন্ধুরা বন্ধুর বিপদ
দেখে ঝুঁকি নিয়েই
ঝিলে নেমে পড়েছিলেন। কাকাকে দেখেই
উনাকে টেনে নিয়ে চললেন রাস্তার
দিকে। জ্ঞান হারালেন কাকা।
পরদিন সকালে কাকার জ্ঞান
ফিরে আসে। এরপর একটানা ২৬ দিন
উনি জ্বরে ভুগেন। এরপর
আস্তে আস্তে সুস্থ হতে থাকেন।
ওহ, কাকার সেই বন্ধুটিকে পরে আর
খুঁজে পাওয়া যায় নি।
ঝিলটি আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও কোথাও
পায়নি গ্রামের লোকেরা।
আমার কাকার হাতের সেই তীব্র
ব্যাথাটি কিসের ছিল জানা যায়নি।
তবে মানুষ কামর দিলে যেমন হয় তেমন
একটা দাগ পরে যায় কাকার হাতে। সেই
হাত তিনি আর ব্যাবহার
করতে পারেননি পরে। এমনকি এখন
পর্যন্ত উনি হাতটা নাড়তে পারেন না।
গল্পটি প
ভীষণ জেদি আর একরোখা ছিলেন।
দাদুর নির্দেশ অমান্য করে রাত
বিরাতে গ্রামের বন্ধুবান্ধবের
সাথে চলে যেতেন
দূরে যাত্রা দেখতে অথবা মাছ শিকারে।
প্রথমেই বলে নেই,
গ্রামে গঞ্জে রাতে মাছ ধরার অন্যতম
কারন হল, তখন মাছ ধরা পড়ে বেশি।
তাই মানুষ বেশিরভাগ সময়ই রাত
হলে মাছ ধরতে যায়।
এমনি ভাবে একদিন আমার কাকা তার
কয়েক বন্ধুর সাথে গিয়েছিলেন
বাড়ি থেকে প্রায় ২ মাইল দূরের
একটা ঝিলে। ঐ ঝিলে প্রচুর
শাপলা ফুটতো। আর
ঝিলটি নাকি গভিরতায় অনেক
বেশি ছিল। তাই সাধারণত মানুষ খুব
একটা যেত না সেখানে মাছ মারার
জন্য। ঐ ঝিল নিয়ে অনেক খারাপ
কথা ছড়িয়ে আছে গ্রাম জুড়ে।
প্রায়প্রতি বছরই ৩-৪ জন মানুষ ঐ
ঝিলে ডুবে মারা যায়।
তাদের মাঝে অনেকেই ভালো সাঁতারু
ছিলেন। তো, এসব কথা জানত
বলে দাদা দাদু মানা করলো যাওয়ার
জন্য। কিন্তু কাকা জেদ ধরলেন
যে তার যেতেই হবে। ভয়ে সরে গেছেন
ভেবে পড়ে তার বন্ধুরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য
করবে এটা কাকা মেনে নিতে পারছিলেন
না।যাই হোক, উনারা খুব আয়োজন
করে৪ বন্ধু মিলে গেলেন মাছ ধরতে।
কাকা এবং উনার বন্ধু কাশেম
লুঙ্গী কাছা দিয়ে প্রায় কোমর
পানিতে নেমে গেছেন। উদ্দেশ্য ছিল
একটু গভীরে গিয়ে জাল মারা।
একটু বলে নেই, সেদিন আমাবস্যা ছিল।
তেমন আলো ছিল না চারপাশে। তাই
উনারা একটা হ্যাজাক
বাতি নিয়ে গিয়েছিলেন। যাই হোক,
উনারা জাল মেরে ঠিকঠাক ভাবেই
উঠে এলেন। উপরে যেই দুজন ছিলেন
তারা অপেক্ষায় ছিলেন।
আস্তে আস্তে জাল গুটাতে লাগলেন।
কাকারাও এর মাঝে ঝিল
থেকে উঠে পড়েছেন। ৪জন মিলেই
ঝিলেরপারে দাঁড়িয়ে জাল গুটাচ্ছিলেন।
হঠাৎ কিসের জেনো আওয়াজ হল পেছন
থেকে। কে যেন ধমক দিল মনে হয়।
হ্যাজাকের আলো ছিল, সেই
আলোতে পেছনে ঘুরে দেখলেন উনারা।
কাউকে দেখলেন না। ভাবলেন
হয়তো মনে ভুল। আবারো জাল
টানতে লাগলেন।
হঠাৎ কি যেন হল, উনাদের হাত
থেকে জালের দড়ি খুব দ্রুত
সরে যেতে লাগলো।
মনে হতে লাগলো কে যেনও খুব
শক্তি দিয়ে উনাদের হাত থেকে সেই
জালটা ছিনিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।
চারজন শক্ত সামর্থ্য জওয়ান, এদের
হাত থেকে জাল টেনে নিয়ে যাওয়ার মত
কোনও মাছ সেই ঝিলে ছিল না।
কাকারা প্রান প্রন
চেষ্টা করতে লাগলেন জালটা থামানোর
জন্য।
তাল সামলাতে না পেরে কাকার এক
বন্ধু পা পিছলে পড়ে গেলেন।
পড়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে হরহর
করে গভীর পানির
দিকে তলিয়ে যেতে লাগলেন।
মনেহতে লাগলো, কেউ যেনও তার
পা ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
কাকারা বিস্ফোরিত
চোখে তা দেখতে লাগলেন। ঘটনার
আকস্মিকতায় তারা স্তব্ধ
হয়ে গিয়েছিলেন। কাকার সেই বন্ধু বার
বার পানির নিচে ডুবে যান আর যখনই
মাথা উপরে উঠে তখনই চিৎকার
করে সাহায্য করতে বলেন। কাকার
বন্ধুরা হই হই করে পিছনের
দিকে চলে যেতে লাগলেন।
তারা ঝিল থেকে উপরে উঠে মাটির
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। কিন্তু
কাকার মনে হয় বুদ্ধি জ্ঞান লোপ
পেয়েছিল। উনি বিমুরের মত সামনে,
আর গভীর পানির দিকে যেতে লাগলেন।
পেছন থেকে কাকার বন্ধুরা চিৎকার
করছিলো, যাসনে, যাসনে করে। কিন্তু
কাকা উনাদের
কথা না শুনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ
কাকা আবিষ্কার করলেন উনার পায়ের
নিচ থেকে মাটিগুলো যেনও ধপ
করে সরে গেলো। দাঁড়ানো অবস্থায়
ছিলেন, কিন্তু ক্ষণিকের
মধ্যে পানিতে ডুবে গেলেন কাকা। হঠাৎ
অনুভব করলেন কে যেন পানির
নিচে টানছে তাকে। খুব শক্তি তার
প্রতিপক্ষের।
একে তো পানির নিচে, তার উপর টান
সামলাতে পারলেন না কাকা।
ডুবতে লাগলেন। নাক
দিয়ে পানি ঢুকতে লাগলো। ফুসফুসের
জমা করা বাতাস গুলো বুদ বুদের মত
করে বেরিয়ে গেলো চিৎকারের সাথে।
যেহেতু পানির নিচে তাই কোনও
আওয়াজ হল না।
আস্তে আস্তে দমে যেতে লাগলেন
কাকা। শেষবারের চেষ্টার মত সরব
শক্তি দিয়ে লাথি মারলেন নিচের দিকে।
অনুভব করলেন কিছু একটার
গায়ে ঠেকল পা টা। অনেকটা মানুষের
শরীরের মত লাগলো। কাকার মনে হল
হয়তো পানির নিচে কেউ
আছে যে তাকে নিচ থেকে টানছে।
নিজেকে বাঁচানোর একটা তাগিদ
ফিরে এলো। যদি পানির নিচের মানুষটার
হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়
তাহলে হয়তো বেচে যাবেন। নিজের সব
শক্তি এক করে একটু ঝুঁকলেন কাকা।
নিজের পায়ের কাছে হাত
দিয়ে জোড়ে জোড়ে আঘাত
করতে লাগলেন।
এলো পাথাড়ি কয়েকটা আঘাতের পর
একটা গিয়ে লাগলো কারো মাংশ
পেশিতে। কাকার এক পা থেকে বাঁধন
ছুটে গেলো। এবার কাকা দিগুন
উদ্যমে আবারো হাত চালালেন,
কয়েকটা মারার
পো মনে হতে লাগলো হয়তো এ
যাত্রা বাঁচবেন না, ঠিক তখনই আর
একটাঘুষি গিয়ে লাগলো সেই মাংশ
পিণ্ডে। দ্বিতীয় পাটাও মুক্ত
হলে এবার। টর্নেডোর
গতিতে উপরে উঠতে লাগলেন কাকা।
উনার হাতটা শরীরের পাশে ছিল।
হঠাৎ হাতে তীব্র ব্যাথা অনুভব
করলেন কাকা। মনে হল কে যেন
ধারালো কিছু বসিয়ে দিলো উনার হাতে।
কোন মতে উপরে উঠলেন কাকা।
উপরে উনার বুন্ধুরা বন্ধুর বিপদ
দেখে ঝুঁকি নিয়েই
ঝিলে নেমে পড়েছিলেন। কাকাকে দেখেই
উনাকে টেনে নিয়ে চললেন রাস্তার
দিকে। জ্ঞান হারালেন কাকা।
পরদিন সকালে কাকার জ্ঞান
ফিরে আসে। এরপর একটানা ২৬ দিন
উনি জ্বরে ভুগেন। এরপর
আস্তে আস্তে সুস্থ হতে থাকেন।
ওহ, কাকার সেই বন্ধুটিকে পরে আর
খুঁজে পাওয়া যায় নি।
ঝিলটি আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও কোথাও
পায়নি গ্রামের লোকেরা।
আমার কাকার হাতের সেই তীব্র
ব্যাথাটি কিসের ছিল জানা যায়নি।
তবে মানুষ কামর দিলে যেমন হয় তেমন
একটা দাগ পরে যায় কাকার হাতে। সেই
হাত তিনি আর ব্যাবহার
করতে পারেননি পরে। এমনকি এখন
পর্যন্ত উনি হাতটা নাড়তে পারেন না।
গল্পটি প